Gothika একটি সাইকোলজিক্যাল হরর মুভি

gothika

Movie : Gothika (2003)

Genre : Horror, Thriller

>Gothika (2003) on IMDb

Download Link

হরর মুভিতে সাইকোলজির প্রভাব অনস্বীকার্য। অস্বাভাবিক সব কার্যাবলির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রায়শই আমরা ভুক্তভোগীর মানসিক দুর্বলতার দিকটাকে ইঙ্গিত করি।
ভিকটিমের অস্বাভাবিক দুর্ঘটনার ব্যাখ্যা না দিতে পেরে হ্যালুসিনেশন, মেন্টাল ডিসঅর্ডার, পার্সোনালিটি কনফ্লিক্ট ইত্যাদি ভারী ভারী শব্দ চয়ন করে নিজের বিদ্যা জাহির করার মাধ্যমে ব্যাপারটা এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করি।
এসব প্যারানরমাল এক্টিভিটির প্রত্যক্ষদর্শীদেরকে সবাই পাগল ঠাউরে বন্দী করে রাখে মানসিক হাসপাতাল নামক জেলখানায়। সেসব রোগীকে ভাল (?) করে তোলার উদ্দেশ্যে কাজ করে যান বড় বড় ডিগ্রি নিয়ে পাশ করা সব মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার।
তাদের মূল উদ্দেশ্য একটাই, রোগীর মানসিক শক্তি বৃদ্ধি, সে যেন নিজেই নিজের মনের সাথে লড়ে বিজয়ী হতে পারে। ডাক্তারেরা সম্পুর্ণ রুপে এড়িয়ে যান ঘটনার উল্টোপিঠের প্যারানরমাল দিক গুলো।
ডোজের পর ডোজ অষুধ খাইয়ে তারা চাপা দিতে চান অলৌকিকতাকে, যা আপাতদৃষ্টিতে বড়ই বিজ্ঞানসম্মত মনে হয়।
কিন্তু কি হয় যদি সেই মনোবিদ ডাক্তারের ভাগ্যেই ঘটে কোনো ব্যাখ্যাতীত আধিভৌতিক ঘটনা। যিনি খুব ভালো করেই জানেন যে মানুষের মস্তিষ্ক তাকে ধোকা দিতেই পারে, মানুষ নিজের মনের মধ্যেই গড়ে নিতে পারে যা ইচ্ছা তাই এবং তা সব সময় সুখকর হয় না।
হ্যালোসিনেশন সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল হওয়ার পরেও যদি তিনি নিজেই সে পরিস্থিতিতে পড়েন তাহলে কিভাবে সামাল দিবেন? কিভাবেই বা অন্যদেরকে বিশ্বাস করাবেন যে তিনি পাগল নন? নিজের কাছেই বা কি ব্যাখ্যা দিবেন?

মুভিতে ড. মিরান্ডা গ্রে, এক মনস্তত্ববিদ ডাক্তার শুক্রবার রাতে তার এক রোগীকে দেখে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। প্রচন্ড বৃষ্টিতে তার বাড়ি ফেরার মুল রাস্তা ধসে যাওয়ায় তাকে বিকল্প রাস্তা ধরতে হয়। কিন্তু নির্জন এক ব্রিজের সামনে গিয়েই তার গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় অজ্ঞাতনামা এক কিশোরী।
মেয়েটিকে বাচাতে গিয়ে গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে সে, কোনরকমে মেয়েটির সামনে দাড়ানোর পরেই জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় মিরান্ডা। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে সে আবিষ্কার করে নিজেরই হাসপাতালের বেডে। কি হয়েছিল সে রাতে? কেন আজ সে নিজেই মানসিক রোগী, তাকে যে মনে করতেই হবে।

অন্য সব কথা বলার আগে মুভির কাস্টিং নিয়ে বলতে চাই। মূল চরিত্র মিরান্ডা হিসেবে আছে আমার প্রিয় হ্যালি বেরি। আর তার বন্ধু আরেক ডাক্তার হিসেবে আছেন আমাদের সবার প্রিয় শার্লোক হোমস থুক্কু আয়রন ম্যান থুক্কু থুক্কু রবার্ট ডাউনি জুনিয়র।
তার চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা আটিয়ে মুখে সাইকোলজির বুলি আউরাতে দেখে বেশ মজা পেয়েছি। তবে চরিত্রটা তেমন ডেভেলপ করা হয়নি, হরর জনরার মুভিতে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের সুযোগ কোথায়?
আরেকটি ছোট তবে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন পেনিলোপে ক্রুজ। তার স্প্যানিশ উচ্চারণে ইংরেজি বলাটা কানে বেশ লেগেছে।
হলিউডের কৃষ্ণকায় নায়িকাদের প্রতি আমার একটা দুর্বলতা কাজ করে, সে রদ্রিগেজ হোক, সালডানা হোক অথবা হ্যালি বেরিই হোক। তবে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও কেন জানি হ্যালি সেটা তেমন কাজে লাগাতে পারে নি।
মুভিতে হ্যালির অভিনয় বরাবরের মতই সাবলীল লেগেছে।

মুভির কাহিনীতে পরিচালক বেশ কিছু টুইস্ট দেয়ার চেষ্টা করেছেন, তবে এগুলোকে ঠিক অর্থে টুইস্ট বলা যায় কিনা আমার সন্দেহ আছে। টুইস্ট গুলো আপনাকে আচমকা আঘাত করবে না, অনেকটা বেশ আগে থেকেই তারা নিজেদের আগমনবার্তা জানিয়ে আসবে।
তবে তা কাহিনীর মুচমুচে ভাবের কোনো ক্ষতি করবে না, বরং আরো আগ্রহী করে তুলবে।

মুভির উপস্থাপনশৈলী আমার কাছে খুব ভাল লেগেছে। গতানুগতিক হররের ধারায় না হেটে পরিচালক তাতে থ্রিলার বজায় রেখেছেন, হরর এলিমেন্ট গুলো আবার কখনো মিস্ট্রির লেভেলে চলে গেছে, ফলে মুভির জনরালিস্টে মিস্ট্রি যোগ করলেও অবাক হব না।
মুভিতে তেমন হাউ-মাউ-খাউ পরিচালক দেখান নি, নেই কোনো অত্যাধিক রক্তপাতের কাটাছেড়া দৃশ্য। সুতরাং যারা একটু ক্লিন হরর মুভি দেখতে পছন্দ করেন এটা তাদের জন্য উপাদেয় খাদ্য।

তবে হ্যা, যেহেতু এটা হরর মুভি সেহেতু কিছু অসঙ্গতি রয়েই গেছে, কিছু প্রশ্নের উত্তর পরিচালক ঠিকভাবে দিতে পারেন নি। তো, হু কেয়ারস? মুভি দেখে মজা পাইলেই হইল, ভুল গুলো এড়িয়ে গেলে বেশ উপভোগ্য এই কম রেটিংপ্রাপ্ত মুভিটা।
যারা উচ্চরেটিং প্রাপ্ত হরর দেখে দেখে চোখ পাকিয়ে ফেলেছেন তাদের আশা করি ভাল লাগবে। প্রত্যাশার পারদ নামিয়ে মুভিটা দেখতে বসে যান, হ্যালি আপনাকে হতাশ করবে না।

আমার রেটিং :
2 Comments
  1. Nirobe
    • Ataur Rahman

Leave a Reply