Martyrs : মরণ-সমুদ্রের নাবিক

martyrs
মৃত্যুর পর মানুষের কি হয়? কি আছে মৃত্যু-পরবর্তী জীবনে? নাকি মৃত্যুতেই শেষ হয়ে যায় মানুষের লীলাখেলা?
এসব প্রশ্ন মানুষের মনে দাগ কেটে চলেছে সেই প্রাচীনকাল থেকেই। নানা ভাবে, নানা কৌশলেই মানুষ চেষ্টা করে চলেছে এই প্রশ্নের উত্তর খুজে পেতে।
কখনো সে কৌশল সীমাবদ্ধ থাকে আত্মশুদ্ধির সাধনায়, আবার কখনো তা পরিনত হয়ে উন্মত্ততায়।
এমনই এক প্রেক্ষাপটে নির্মীত ফ্রেঞ্চ মুভি “Martyrs (2008)”

Movie : Martyrs (2008)

Genre : Drama, Horror, Mystery

>Martyrs (2008) on IMDb

Download Link

মুভির কাহিনী বেশ চমকপ্রদ, লুসি নামের এক মেয়ে একদল শিশু-নির্যাতকদের হাতে চরমভাবে নির্যাতিত হওয়ার পর একদিন পালাতে সক্ষম হয়। কিন্তু সেই নরক থেকে উদ্ধার পেলেও তার মানষিক অবস্থার উপর এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সে Personal Disorder এ ভুগতে থাকে, জনসাধারন এড়িয়ে চলে সে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় এক অশরিরী সত্ত্বা তাকে তাড়া করে ফেরে। এদিকে এনা নামের এক মেয়ে তার এই বিপদে এগিয়ে আসে, নিজের বন্ধু হিসেবে আগলে রাখে তাকে।
মায়ের মমতা দিয়ে অনেকটা স্বাভাবিক করে ফেলে লুসিকে। এভাবে কেটে যায় ১৫ বছর। এনা একসময় তার সেই অভিশপ্ত শিশুকালের নির্যাতকদের খুজে পেয়ে যায়। শরীরে তার  উঠলে ওঠে প্রতিহিংসার আগুন। প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত্ব হয়ে শুরু করে তান্ডবকর্ম। কি হয়েছিল তার সাথে সেই ১৫ বছর পূর্বে? কে ছিল তারা?

মুভির কাহিনী শুনতে যতটা সাদামাটা মনে হচ্ছে আদতে তার উপস্থাপন আরো জটিল। আর এটাই মুভির প্লাস পয়েন্ট। আসলে স্পয়লার না দিয়ে মুভির কাহিনী আলোকপাত করা একটু কঠিনই বটে।
এমন প্লটের মুভি এর আগে দেখা থাকা সত্ত্বেও এর স্টোরি টেলিং আমার কাছে দারুন উপভোগ্য লেগেছে ।

মুভির এক পর্যায়ে আমি ধরেই নেই যে, মুভি শেষ……………..আমি মনে মনে ভাবছিলাম যে, “মুভিটা ভালই ছিল, কিন্তু বড্ড ছোট হয়ে গেল। পরিচালক মুভিটাকে আরেকটু বড় করলে ভাল লাগত।”
আর, তখনই যেন মুভিটা আমার প্রতি হো হো করে অট্টহাসি হেসে তার কাহিনী প্রবাহ ঘুড়িয়ে নিল,আমি হা করে চেয়ে থাকলাম মনিটরের দিকে।

মুভির দুই নারী চরিত্রই তাদের নিজ চরিত্রের সাথে মিলিয়েই সাবলীল অভিনয় করেছেন, অতিঅভিনয় লাগে নি কোথাও । কিছুকিছু দৃশ্যে অভিব্যক্তি দেখার মতই ছিল।

মুভির সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট ছিল পরিচালনা। পরিচালক হরর গোর এর মধ্যেই সূক্ষভাবে রিচুয়াল বিলিভের বিষয়গুলো ঢুকিয়ে দিয়েছেন যা মুভির গতি একটু স্লথ করে দিলেই যোগ করেছে অন্যরকম স্বাদ ।

মুভিতে প্রচুর রক্তারক্তি রয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে যথেষ্ট টর্চার সীন। যা দর্শকমনে যথেষ্ট মানষিক চাপ প্রয়োগ করে। এজন্য যারা এধরনের মুভি দেখতে অস্বস্তিবোধ করেন তাদের দূরে থাকাই ভাল।

মুভিটা অনেকটা “hate it or love it” টাইপের। মুভির কনসেপ্ট রীতিমত এক বিশাল দানবে পরিনত হয়ে হরর-গোর-মিস্ট্রি-প্যারাসাইকোলজী সব ছাড়িয়ে অন্য এক মাইলফলক স্থাপন করেছে।

ফ্রেঞ্চ হররের পছন্দের একটা দিক হচ্ছে , এরা মুভিতে গ্রাফিক্সের কাজ একদম মিনিমাম লেভেলে রাখে। প্র্যাকটিক্যাল মেকাপ এবং উপস্থাপনার কারনে মুভির দৃশ্যগুলো তাই হয়ে ওঠে আরো বিশ্বাসযোগ্য, জীবন্ত। এ মুভিতেও কিছু কিছু দৃশ্যের ভয়ংকর উপস্থাপনা দেখে শিউরে ওঠার পাশাপাশি মুগ্ধও হয়েছি।

কিছু মুভি আছে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অতিসূক্ষভাবে মাথায় কিছু চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়, এটাও তেমনই একটি মুভি।
তো, হাতে সময় নিয়ে দেখতে বসে যান এক ভিন্ন স্বাদের ফরাসি হরর মুভি Martyrs

আমার রেটিং :

Leave a Reply